32.8 C
Rajshahi
Monday, October 18, 2021
Home সারাদেশ জাতীয় অমর একুশে

অমর একুশে

এফএনএস: গাজীউল হক ‘একুশের গান’ কবিতায় লিখেছেন-‘ভুলবো না ভুলবো না ভুলবো না/সে একুশে ফেব্রুয়ারি ভুলবো না/ লাঠি গুলি টিয়ারগ্যাস মিলিটারি আর মিলিটারি ভুলবো না’। ভাষা সৈনিক গাজীউল হক ছিলেন রাষ্ট্রভাষা সংগ্রামের অন্যতম একজন নেতা। তিনি কবিতায় একুশে ফেব্রুয়ারিকে এমন আবেগেই দেখেছেন। আবার দ্রোহের আগুন তাঁর বুকের মধ্যে দাউ দাউ করে জ¦লেছে। এই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা বাংলায়।
বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার প্রশ্নটি উত্থাপিত হয় ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের আগে থেকেই। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বেই আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. জিয়াউদ্দিন উর্দুকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার প্রস্তাব করেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ পাল্টা বাংলা ভাষার প্রস্তাব দেন। বাংলাকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক ভাষার প্রথম আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আসে ‘গণআজাদী লীগের’ (পরবর্তীতে সিভিল লিবার্টি লীগ)- পক্ষ থেকে ১৯৪৭ সালের জুলাই মাসে। তাঁরা তাঁদের দাবির পক্ষে জোর প্রচার চালায়। সে সময়ের সংবাদপত্রগুলো পাকিস্তানে বাংলা ভাষার সম্ভাবনা নিয়ে বুদ্ধিজীবীদের কলাম এবং নিবন্ধ একের পর এক প্রকাশ করে।
১৯৪৭ সালের ২২ জুন দৈনিক ইত্তেহাদে প্রকাশিত আবদুল হকের কলাম ছিল প্রথম। ২৯ জুলাই মুহম্মদ শহীদুল্লাহর নিবন্ধটি ছিল বিরাজমান প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। তবে এ সব নিবন্ধের অধিকাংশের বিষয়বস্তু ছিল বাং-লাকে পূর্ব পাকিস্তানের প্রাদেশিক ভাষার মর্যাদা দেয়া প্রসঙ্গে। ১৯৪৭ সালের ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত পূর্ব পাকিস্তান গণতান্ত্রিক যুব লীগের এক সভায় একই দাবি উত্থাপিত হয়। ভারত বিভাগকালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তাঁর নিজ হাতে গড়া দৈনিক ইত্তেহাদ পত্রিকা প্রকাশ করেন। ১৯৪৬ সালে কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত এই পত্রিকা অল্প কয়েকদিনেই মানুষের মন জয় করে। এ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন সাহিত্যিক ও সাংবাদিক আবুল মনসুর আহমদ এবং সোহরাও-য়ার্দীর ভাবশিষ্য তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত এ পত্রিকার পরিচালনা বোর্ডের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। প্রবন্ধকার আব্দুল হকের ‘বাংলা বিষয়ক প্রস্তাব’, ‘উর্দু রাষ্ট্রভাষা হলে’, মাহাবুব জামালের ‘রাষ্ট্রভাষা বিষয়ক প্রস্তাব’সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ এ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এছাড়া পূর্ব বাংলার প্রথম পর্বের ভাষা আন্দোলনের অনেক খবর গুরুত্ব সহকারে প্রকাশ হতো নিয়মিতভাবে। যে কারণে বিভিন্ন সময়ে দৈনিক ইত্তেহাদ পূর্ব বাংলায় আসতে বাধাগ্রস্ত হয়।
১৯৫০ সালে পত্রিকাটি বন্ধ হয়ে যায়। বাংলাকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা করার লক্ষ্যে নতুন সংগঠন তমদ্দুন মজলিশ একটি বই প্রকাশ করে যার নাম ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা বাংলা নাকি উর্দু?’ বইটিতে তিন জনের লেখা ছিল, তাঁরা হলেন, অধ্যক্ষ আবুল কাশেম, আবুল মনসুর আহমদ ও কাজী মোতাহার হোসেন। তাঁরা এ বইয়ে বাংলা ও উর্দু উভয়কেই রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দেয়ার সুপারিশ করেন। তাঁরা ফজলুল হক মুসলিম হলে ১২ নবেম্বর একটি সভা করেন। এই সভার আগে পূর্ব বঙ্গ সাহিত্য সমাজ ৫ নবেম্বর এ সংক্রান্ত একটি সভা করেছিল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments