32.8 C
Rajshahi
Thursday, September 23, 2021
Home সম্পাদকীয় কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে

কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা বন্ধ করতে হবে

দেশে কিরোশর অপরাধ দিন দিন বাড়ছে। যে বয়সে বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা, মাঠে খেলাধুলা করা, সৃজনশীল কাজের মধ্য দিয়ে নিজেদের প্রতিভা বিকাশের পথে এগিয়ে যাওয়ার কথা, সেই বয়সের কিশোররা এখন ছুরি-চাকু, এমনকি আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। মাস্তানি করে, মাদকের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকে। রাস্তাঘাটে ছিনতাই করে। মেয়েদের উত্ত্যক্ত করে। বাধা দিলে রক্তারক্তি, খুুনাখুনি করে। উত্তরা, তেজগাঁও, যাত্রাবাড়ীসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এরা গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে। শুধু রাজধানী কেন, সারা দেশেই এদের বেপরোয়া উত্থান লক্ষ করা যায়। বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলার ২২ আসামির ১৪ জনই ছিল কিশোর। চট্টগ্রামেও একাধিক খুনের ঘটনা ঘটিয়েছে কিশোর অপরাধীরা। বিভিন্ন সময় পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, শুধু উত্তরা এলাকায়ই রয়েছে এক ডজনের বেশি কিশোর গ্যাং। মাঝেমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো অভিযান চালালেও কিশোর অপরাধ কমছে না, বরং দিন দিন বেড়েই চলেছে। কিশোর অপরাধ এভাবে বেড়ে যাওয়ার জন্য অনেকেই মূল্যবোধের অবক্ষয়কে দায়ী করে। পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত খবরাখবর থেকে জানা যায়, মাদক কারবার, এলাকায় প্রভাব বিস্তারসহ নানা কারণে প্রভাবশালী ‘বড় ভাইদের’ ইন্ধনে গড়ে ওঠে এসব কিশোর গ্যাং। এই বড় ভাইদের মধ্যে যেমন মাদক কারবারি আছেন, তেমনি আছেন রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাও। গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে জানা যায়, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডে থাকা ‘বিএনপি বস্তির’ কিশোরদের দিয়ে অপরাধ করাচ্ছে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলরের ভাতিজা ও ভাগ্নে। এখানে প্রায় প্রকাশ্যেই বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, গাঁজাসহ অন্যান্য মাদক। চলে অবাধে জুয়া খেলা। স্থানীয় অধিবাসীরা জানায়, এই কিশোরদের কাছে তারা অসহায়। প্রতিবাদ করলে চরম মূল্য দিতে হবে।
সমাজবিজ্ঞানীরা মনে করেন, দুর্বল আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির পাশাপাশি পারিবারিক শিক্ষার অভাবই কিশোর অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার অন্যতম কারণ। সন্তানের শিক্ষা ও চরিত্র গঠনের প্রতি অভিভাবকদের যতটা মনোযোগ দেওয়া দরকার, তাঁরা তা দেন না; বরং সন্তান যা চায়, তা-ই দিয়ে তাকে সন্তুষ্ট করতে চান। মোটরসাইকেল কিনে দেওয়া হয়; আর তা নিয়ে এই কিশোররা রাস্তায় রীতিমতো ত্রাসের সৃষ্টি করে। একসময় এই কিশোররা পরিবারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। হয়ে ওঠে নেশাগ্রস্ত এবং সম্পূর্ণরূপে একেকজন অপরাধী। তখন শুধু বাইরের মানুষ নয়, নিজের মা-বাবাকে খুন করতেও তারা দ্বিধা করে না। বরগুনার রিফাত হত্যা মামলার রায়ে আদালতের একটি পর্যবেক্ষণে বলা হয়, কিশোরদের অপরাধের ক্ষেত্রে কম শাস্তির বিধানের অপব্যবহার হচ্ছে। বিষয়টি আবার বিবেচনা করা যেতে পারে। কৈশোরের বয়সসীমা কমানো যায় কি না, তা-ও ভেবে দেখতে হবে। পাশাপাশি শুধু কিশোর অপরাধে জড়িতদেরই নয় এসবের ইন্ধনদাতাদেরও শাস্তির আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments