32.8 C
Rajshahi
Monday, January 18, 2021
Home সারাদেশ ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে দুই বন্ধুর মিনি কারখানা

ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্নে দুই বন্ধুর মিনি কারখানা

বাঘা প্রতিনিধি: টার্কি আর কোয়েল ফার্মের লোকসানে পিছিয়ে পড়ে অনেক কারখানায় ঘুরে চাকরি পাননি নুরল ইসলাম। সমাধানের পথ খুঁজে না পাওয়া সমস্যাও মাথায় ভনভন করে ঘোরে। এসব সমস্যা নিয়ে দুই বন্ধুর মুখোমুখি আলাপচারিতায় বাড়তে থাকে ঘনিষ্ঠতা। স্বাবলম্বী হতে তারা গড়ে তুলেন মিনি কারখানা। তবে কাজের অভিজ্ঞতা জানা থাকলেও পুঁজি ও মেশিন সঙ্কটের কারণে কারখানা আরম্ভ করার পূর্বেই যেন থমকে যেতে হয়েছে তাদের। অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কথা ভুলে,পরিশেষে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টায় যেন দৃঢ় প্রত্যয়ী দুই বন্ধু নুরল ইসলাম ও সাইফুল ইসলাম।
ঋণ করে ১টি মেশিন কিনে বাঘা পৌরসভার বানিয়াপাড়ায় জান্নাত আলীর বাড়ি সংলগ্ন মার্কেটে দুই মাস পূর্বে পাঁচশ’ টাকার ছোট্ট একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে জিআই তার দিয়ে নেট তৈরির মিনি কারখানা চালু করেন তারা। এতে দুই হর্স পাওযারের ৩০ হাজার টাকা মূল্যের ইলেকট্রিক মোটর আর জিআই তার কিনা দিয়ে মোট খরচ হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। বেকার জীবনে সচ্ছল হওয়ার স্বপ্নে শুরু হয় তাদের পথচলা। কারখানার নাম দেওয়া হয় ‘বাঘা নেট ঘর’।
শুরুতেই ব্যাপক সাড়া মেলে তাদের কারখানায় জিআই তারের তৈরি নেটের। হাঁস-মুরগির খামার ,বাগানসহ বিভিন্ন জমিতে বাঁশের বেড়ার পরিবর্তে এই জিআই তারের তৈরি নেট সেখান থেকে কেনা শুরু করেন ওইসব মালিকরা। কারখানায় পারটাইম কাজ করে ৭ থেকে ১০জন বেকার যুবক। সাইজ ভেদে তাদের প্রতিজনকে দেওয়া হয় ১ থেকে ১০ টাকা ফুট হিসেবে । ১ থেকে ৪ ইঞ্চি দুরুত্বের নেট তৈরি করা হয় ওই বাঘা নেট ঘরে । বিভিন্ন সাইজের তৈরি নেট বিক্রি হয় ৮ থেকে ৩০ টাকা ফুট হিসেবে।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিদিন স্কয়ার ফিট হিসেবে ৪ থেকে ৫ হাজার নেট তৈরি করা সম্ভব। যার বিক্রয় মূল্যে দাঁড়াবে ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা। খরচ বাদে লাভ দাড়াবে ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা। তবে সেই লক্ষে এখনো পৌঁছাতে পারেননি। পুঁজির অভাবে অটো মেশিন কিনতে পারছেন না। যার দাম ৪ লক্ষ টাকা। তাই সহজ কিস্তিতে সুদমুক্ত ঋণ সুবিধা পেলে তাদের কারখানাটি হয়ত এক সময় অনেক বড় হবে। আর এখানেই কর্মহীন মানুষ কাজ করে নিজেরাই নিজেদের পুনর্বাসিত করতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার সেখানে গিয়ে দেখা যায়, দুই বন্ধুর একজন মেশিন চালাচ্ছে আরেকজন তারের বান্ডিল থেকে মেশিনে তার ধরিয়ে দিচ্ছে। আর নেটের কাজ করছে অন্যরা। এদের একজন বাঘা পাবলিক ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্র জাহিদ। সে জানায়, অবসর সময়ে গ্রামে কাজ করার সুযোগ হয়েছে। করোনাকালিন ছুটিতে স্কুল বন্ধ আছে। তাই প্রাইভেট পড়ার খরচ যোগাড়ে কাজ করছেন। প্রতিদিন আয় করছেন ৫০ থেকে ১০০ টাকা। তার এ টাকা অস্বচ্ছল সংসারে উপকারে আসছে।
নুরল ইসলাম জানান, কাজের সন্ধানে তারা ঝিনাইদহ যান। সেখানে গিয়ে তাদের এই কাজটি চোখে পড়ে। ভাবলেন বাঘা উপজেলায় নেট তৈরির কারখানা নেই। কাজটি শুরু করলে চলবে। সেই চিন্তা থেকে স্থানীয় একটি সমিতি থেকে ৩০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে দুই হর্স পাওয়ারের ইলেকট্রনিক্স মর্টার মেশিন কেনেন। আর নিজেদের কাছে থাকা টাকা দিয়ে নেট তৈরি মেশিন ও জিআই তার কিনে একটি ভাড়া দোকানে কাজ শুরু করেন। এরই মধ্যে বেশ কিছু কাজের অর্ডারও পান তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা

রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী...

সাংবাদিক হিলালী ওয়াদুদের মৃত্যু

এফএনএস: দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক হিলালী ওয়াদুদ চৌধুরী আর নেই। গতকাল শুক্রবার সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। ঢাকা...

গোদাগাড়ীর কাদমা হাইস্কুলের ভবন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোদাগাড়ীর কাদমা হাই স্কুল ১৯৯৭ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্ট করে অনেক ত্যাগ স্বীকার...

রাজশাহীতে মাসব্যাপী বিসিক-ঐক্য উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মঠপুকুর সংলগ্ন মাঠে বঙ্গবন্ধুর...

Recent Comments