32.8 C
Rajshahi
Friday, April 16, 2021
Home বিশেষ সংবাদ ছাত্রজীবনেই মাসে আয় লাখ টাকা

ছাত্রজীবনেই মাসে আয় লাখ টাকা

রাবি প্রতিনিধি: করোনা পরিস্থিতিতে বাংলাদেশসহ পৃথিবীজুড়েই সামাজিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে এক নতুন ধারা সূচিত হয়েছে। বিশেষত তরুণরা এগিয়ে এসেছেন নানামুখী সৃজনশীল কর্মে। উদ্যোগী হয়েছেন, ঘুরে দাঁড়িয়েছেন অনেকে। স্বাবলম্বী হতে পথ দেখিয়েছেন কেউ কেউ। তাদেরই একজন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মতিউর রহমান। করোনায় ক্যাম্পাস বন্ধ থাকার কারণে ঘরে বসে থাকেননি। বাড়িতে থেকে খামারে মুরগি পালন শুরু করেছেন তিনি। এরইমধ্যে বেশ সফলও হয়েছেন, ডিম বিক্রি করে মাসে আয় করছেন আনুমানিক দেড় লাখ টাকা। আয় আরো বাড়বে এমন আশা মতিউরের। খামারে এই মুরগি পালনে ছেলের এমন সফলতায় উচ্ছ্বসিত পরিবার।
মতিউরের বাড়ি কিশোরগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে কটিয়াদি উপজেলার বনগ্রামে। সেখানে ১২ বিঘা জমিতে একটি পুকুর। পুকুরে মাছ চাষ হচ্ছে। আর পুকুরের উপর ভাসমান তিনটি মুরগির শেড। সেখানে লেয়ার মুরগি পালন করা হচ্ছে। মুরগির বিষ্ঠা পুকুরে মাছের খাবার যোগান দিচ্ছে। এভাবেই সমন্বিত পদ্ধতিতে হচ্ছে মাছ চাষ ও মুরগি পালন। মতিউর শুনাচ্ছিলেন সেসব সফলতার গল্প।
তিনি বলেন, গত মার্চে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিভিন্ন ধাপে ধাপে ছুটি বৃদ্ধি করা হয়। সময় কাটছিল না। বেশির ভাগ সময় মন খারাপ থাকতো। একদিন শরীফ চাচা পরামর্শ দেয়, সময় কাটানোর জন্য মুরগি পালন শুরু করতে। এতে সময় ভালো কাটবে, লাভবানও হওয়া যাবে। চাচার দেয়া পরামর্শে কাজ শুরু করি। বাবা সহযোগিতা করেছেন, তার সহযোগিতায় প্রথমে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক থেকে পাঁচ লাখ টাকা লোন করি। বাড়ির পাশে একটি পুকুরে দুটি শেড তৈরি করি। প্রতিটি শেডে এক হাজার করে মুরগি পালন শুরু করি। দুমাসের মাথায় কিছু মুরগি ডিম দিতে শুরু করে। এখন প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ মুরগি ডিম দিচ্ছে। পাইকারি দামে কিশোরগঞ্জের বিভিন্ন বাজারে ডিম বিক্রি করছি।
বর্তমানে ডিমের বাজার খুব ভালো। ১০০টি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ৮৫০ টাকা। প্রতিদিন মুরগির খাবার, ওষুধ, পরিবহনসহ আনুষাঙ্গিক খরচ হচ্ছে আট-নয় হাজার টাকা। সব খরচ বাদে হিসেব করলে দেখা যাবে প্রতিমাসে আনুমানিক দেড় থেকে দুই লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে। ভবিষ্যতে আয় আরো বাড়বে বলে আশা মতিউরের।
তিনি আরো বলেন, মুরগি পালনের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিলো না। আর এব্যাপারে কোন প্রশিক্ষণও গ্রহণ করিনি। তবে গ্রামে চাচার লেয়ার মুরগির খামার ছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় ছুটি হলে বাড়ি গিয়ে চাচার খামারে বসে আড্ডা দিতাম, বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলতাম। সেখান থেকে কিছুটা উপকৃত হয়েছি। সর্বক্ষণ আমার পাশে থেকে কাজটা সহজ করে দিয়েছেন ওই চাচা। ডিম বিক্রির টাকা দিয়ে পরে আরো একটি শেড নির্মাণ করেছি। সেখানে আরো এক হাজার মুরগি পালন শুরু করেছি। পাশাপাশি পুকুরে রুই, কাতলা, মৃগেল, সরপুঁটিসহ দেশি মাছের চাষ করছি। সেখান থেকেও ভালো মুনাফা আসবে।
ব্যাংক থেকে নেয়া ৫ লাখ টাকার মধ্যে ৩ লাখ টাকা এরইমধ্যে পরিশোধ করেছি। বাকি টাকা খুব শিগগিরই পরিশোধ করে দিবো। প্রথমে বাবা আর আমি দুজনে মিলে খামারে কাজ করলেও এখন আর পেরে উঠতে পারছি না। তাই দুজন কাজের লোক রাখা হয়েছে।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে মতিউর বলেন, আস্তে আস্তে খামারের সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করবো। পাশাপাশি আরও নতুন করে কিছু শুরু করা যায় নাকি ভাবছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments