32.8 C
Rajshahi
Thursday, November 26, 2020
Home মহানগর নগরীতে মানববন্ধনে বক্তারা মামলা দিয়ে সাংবাদিকের লিখনি থামানো যাবে না

নগরীতে মানববন্ধনে বক্তারা মামলা দিয়ে সাংবাদিকের লিখনি থামানো যাবে না

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে নগরীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল সোমবার সকালে মানববন্ধনের আয়োজন করে, রাজশাহী সংবাদিক ইউনিয়ন এর একাংশ। মানববন্ধনে রাজশাহীতে কর্মরত সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
মানববন্ধনে দৈনিক যুগান্তরের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, রাজশাহীর স্থানীয় সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলীসহ ৮ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
মানববন্ধনে বক্তব্যরা বলেন, ‘যতই মামলা দেয়া হোক, সাংবাদিককের কলম থামানো যাবে না। সংবাদিক মামলাকে ভয় পায় না। মামলা দিয়ে সাংবাদিকের লিখুনি থামানো যাবে না।’
আরউজের একাংশের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রবীণ সাংবাদিক মুস্তাফিজুর রহমান খান আলম বলেন, সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করার উপযুক্ত স্থান বাংলাদেশ প্রেস কাউন্সিল। কিন্তু কাজী জাহিদ মামলা করেছেন থানায়। আমরা এর প্রতিবাদ জানাই। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সহ-সভাপতি মামুন-অর-রশিদ বলেন, রাবির যে শিক্ষক আইসিটি আইনে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন সেই শিক্ষকই আওয়ামী লীগ নেতা মোহাম্মদ নাসিমকে নিয়ে অপপ্রচারের জন্য এই আইনে গ্রেপ্তার হয়ে জেল খেটেছেন। তিনি নিজেই আইন মানেন না। আর তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে মামলা করেছেন তাতে পুলিশ প্রভাবিত হয়ে অভিযোগপত্র দিয়েছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই। ধিক্কার জানাই।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোমিনুল ইসলাম বাবু বলেন, মামলার অভিযোগপত্র দাখিলের আগে তদন্ত কর্মকর্তা বিবাদীদের সঙ্গে কথা বলেননি। সম্পূর্ণ একপেশে মনোভাব নিয়ে তিনি বাদীর কথামতো অভিযোগপত্র দাখিল করেছেন। কিন্তু মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিরোধ করা যায় না। অতীতে কখনও এটা সম্ভব হয়নি। আগামীতেও হবে না।
আরইউজে একাংশের সভাপতি কাজী শাহেদ বলেন, সরকার বার বার সাংবাদিকদের আশ^স্ত করেছে আইসিটি আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করা হবে না। কিন্তু বাস্তবতা তার উল্টো। একজন শিক্ষক আইসিটি আইনে শুধু সম্পাদকদের বিরুদ্ধেই মামলা করেননি, তিনি নিজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধেও মামলা করেছেন। তার মধ্যে যদি শিক্ষকসুলভ কোন আচরণ থাকে, তাহলে তিনি আজই মামলা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেবেন।
সাধারণ সম্পাদক তানজিমুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকের কাছে নিজের সন্তানের মতো। কিন্তু কাজী জাহিদ কেমন শিক্ষক, তিনি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা করেন! এই মামলা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আমরা মাঠে থাকব।
কর্মসূচিতে রাবি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আরাফাত রহমান বলেন, শিক্ষক কাজী জাহিদ আইসিটি আইনের মামলায় ৭১ দিন কারাগারে ছিলেন। আমরা তখনও এই কালো আইন বাতিল করার দাবি জানিয়েছিলাম। এখন তিনিই এই কালো আইনে সাংবাদিকদের হয়রানি করছেন। আমরা মনে করি তার নৈতিক স্থলন ঘটেছে। বিশ^বিদ্যালয়ে কর্মরত কোন সাংবাদিক এই প্রথম তার মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছেন। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
কর্মসূচিতে একাত্মতা ঘোষণা করে উপস্থিত হয়েছিলেন রাজশাহী অ্যাডভোকেট বার সমিতির সাধারণ সম্পাদক পারভেজ তৌফিক জাহিদী, রাজশাহীর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এন্তাজুল হক বাবু, নগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়া সম্পাদক তৌফিক আলী ভাদু, রাজশাহী সংবাদপত্র কর্মী পরিষদের সভাপতি রেজাউল করিম রেজা, বাংলাদেশ রেশম শিল্প মালিক সমিতির সহ-সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিন নিলা, ওয়েবের রাজশাহীর সভাপতি আনজুমান আরা লিপি, রাজশাহী বিসিক শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবদুল মালেক, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের রাজশাহীর সহ-সভাপতি সেলিনা বেগম প্রমুখ।
আরও বক্তব্য দেন, রাজশাহী কলেজ রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি বাবর মাহমুদ।
উপস্থিত ছিলেন, স্থানীয় দৈনিক সোনার দেশের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত, সোনালী সংবাদের নির্বাহী সম্পাদক মাহমুদ জামাল কাদেরী, বার্তা সম্পাদক আবদুল করিম, কালের কণ্ঠের রাজশাহী ব্যুরো প্রধান রফিকুল ইসলাম, বিএফইউজে সদস্য জাবীদ অপু, রাজশাহী টেলিভিশন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান শ্যামল, আরইউজের কোষাধ্যক্ষ সরকার দুলাল মাহবুব, যুগ্ম সম্পাদক সাইফুর রহমান রকি, নির্বাহী সদস্য মিজানুর রহমান টুকু, সামাদ খান, সিনিয়র ফটোসাংবাদিক আজাহার উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক শ.ম সাজু, আনিসুজ্জামান, রফিকুল ইসলাম, আবরার শাঈর, আবদুস সাত্তার ডলার, শামীম হোসেন, তৈয়বুর রহমান প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের আবাসিক শিক্ষক ও কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক কাজী জাহিদের বিরুদ্ধে সিট বরাদ্দ দিতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। সংবাদ প্রকাশের জের ধরে যুগান্তরসহ ১৬টি পত্রিকার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন ক্ষুব্ধ ওই শিক্ষক । তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর চার্জশিট জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা। এ মামলার প্রেক্ষিতে গত শুক্রবার সন্ধ্যায় চাপাইনবাবগঞ্জের নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার হন যুগান্তরের রাবি প্রতিনিধি সাংবাদিক মানিক রাইহান বাপ্পী। পরে ১৪ নভেম্বর আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

মেসিকে ছাড়াও দুর্দান্ত বার্সেলোনা, শেষ ষোলো নিশ্চিত

এফএনএস স্পোর্টস: দুই ম্যাচ হাতে রেখেইে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে বার্সেলোনা। মার্টিন ব্রেথওয়েটের জোড়া গোলে গতকাল ডায়নামো কিয়েভকে ৪-০ গোলে...

মোরাতার শেষ মুহূর্তের গোলে জুভেন্টাসের জয়

এফএনএস স্পোর্টস: আলভারো মোরাতার শেষ মুহূর্তের গোলে হাঙ্গেরিয়ান ক্লাব ফেরেনভারোসকে ২-১ গোলে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে জুুেভন্টাস। মঙ্গলবার...

পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন জাতীয় চার নেতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজশাহী মহানগরের পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন হওয়ায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতি জননেত্রী দেশরতœ শেখ হাসিনা এমপি ও সাধারণ...

পররাষ্ট্রমন্ত্রী করোনায় আক্রান্ত

এফএনএস: পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। স্বাস্থ্য পরীক্ষার পর গত মঙ্গলবার রাতে তার ফলাফল পজিটিভ আসে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের...

Recent Comments