32.8 C
Rajshahi
Saturday, January 23, 2021
Home সারাদেশ জাতীয় বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

এফএনএস: ‘‘উদয়ের পথে শুনি কার বাণী/ ভয় নাই, ওরে ভয় নাই/ নিঃশেষে প্রাণ যে করিবে দান/ ক্ষয় নাই তার ক্ষয় নাই।’’- কবিতার মতো করেই শহীদ বুদ্ধিজীবীরা বেঁচে আছেন, থাকবেন। রক্তের আখরে, কষ্টের প্রস্রবণে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতিবাহী দিনটি বছর ঘুরে আবার এলো। আজ সোমবার সেই বেদনাঘন ১৪ ডিসেম্বর। আমাদের জাতীয় জীবনের আরেক শোকাবহ দিন এটি। বিজয়ের চূড়ান্তক্ষণে ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশ তার বিশিষ্ট ও শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হারায়। ধীমান, অনন্য মনীষা সেসব ব্যক্তিত্বের প্রতি জাতির সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা প্রদর্শন ও তাদের স্মরণে প্রতি বছরই যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়। এ উপলক্ষে সরকারের পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। ইতিহাস বলে, ঊনিশশ একাত্তর সালে টানা নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে যখন শত্রুদের হাত থেকে জাতি পরম মুক্তির প্রহর গুণছিলো, ঠিক তখনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী ও ঘাতকচক্রের হাতে প্রাণ হারান বাংলাদেশের মেধা ও মননের ধারক, প্রথিতযশা সাংবাদিক, সাহিত্যিক, চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, প্রকৌশলী, দার্শনিক এবং শিক্ষাবিদগণ। একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের অভ্যুদয়ের পূর্ব মুহূর্তে দেশকে মেধা, শিক্ষা ও সংস্কৃতিশূন্য করার হীনমানসিকতা থেকেই একচল্লিশ বছর আগে এমনি এক দিনের নীলনকশা অনুযায়ী ঠান্ডা মাথায় মানব সভ্যতার অন্যতম বর্বর ও কাপুরুষোচিত এই হত্যাকান্ড পরিচালিত হয়। গোটা জাতির আবেগঘন শ্রদ্ধা ও ফুলেল ভালোবাসায় শীহদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত হচ্ছে।
গা শিউরে উঠা সেই দিনে অকল্পনীয় নিষ্ঠুর কায়দায় হত্যা করা হয়েছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, অধ্যাপক গোবিন্দ চন্দ্র দেব (জিসি দেব), অধ্যাপক মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী, অধ্যাপক জ্যোতির্ময় গুহ ঠাকুরতা, অধ্যাপক গিয়াস উদ্দিন, অধ্যাপক আ ন ম মনিরুজ্জামান, অধ্যাপক আনওয়ার পাশা, সাংবাদিক নিজাম উদ্দিন আহমেদ, শিলালিপি সম্পাদিকা বেগম সেলিনা পারভীন, সাংবাদিক সিরাজ উদ্দিন হোসেন, ডা. আলীম চৌধুরী, ডা. আবুল খায়ের, ডা. রাশিদুল হাসান, ডা. ফজলে রাববী, ডা. আজাদ, ডা. গোলাম মুর্তাজা, ডা. ফজলুর রহমান, অধ্যাপক মোহাম্মদ সাদেক, ড. ফয়জুল মুতী, আব্দুল মুক্তাদীর, সন্তোষ ভট্টাচার্য, আবুল বাশার চৌধুরী, সাহিত্যিক-সাংবাদিক শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখ বুদ্ধিজীবীগণকে। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে ঢাকার রায়েরবাজারসহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে অনেকের গলিত লাশ খুঁজে পাওয়া যায়। বাকিরা রয়ে যায় নিখোঁজ, অজ্ঞাত। এই বুদ্ধিজীবীদের স্মৃতি চিরজাগরুক রাখতে ও তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনার্থে রাজধানীর মিরপুরে নির্মাণ করা হয় শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা

রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী...

সাংবাদিক হিলালী ওয়াদুদের মৃত্যু

এফএনএস: দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক হিলালী ওয়াদুদ চৌধুরী আর নেই। গতকাল শুক্রবার সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। ঢাকা...

গোদাগাড়ীর কাদমা হাইস্কুলের ভবন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোদাগাড়ীর কাদমা হাই স্কুল ১৯৯৭ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্ট করে অনেক ত্যাগ স্বীকার...

রাজশাহীতে মাসব্যাপী বিসিক-ঐক্য উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মঠপুকুর সংলগ্ন মাঠে বঙ্গবন্ধুর...

Recent Comments