32.8 C
Rajshahi
Monday, June 21, 2021
Home সারাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎহীন সিলেটে পানির জন্য হাহাকার

বিদ্যুৎহীন সিলেটে পানির জন্য হাহাকার

এফএনএস: কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুতের ১৩৩/৩২ গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন সিলেট শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। এ কারণে পুরো শহরের বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে পানির সমস্যা সবচেয়ে বেশি। নগরের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পানি সংকট শুরু হয় নগরজুড়ে। রাতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বেশির ভাগ বাসায় খাবার পানিও শেষ হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সকালে নগরের পাড়া-মহল্লায় দেখা গেছে অন্যরকম চিত্র। পানি সংগ্রহের বিকল্প পথ খুঁজতে পথে বেরিয়েছেন অনেকে। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই পানি সংগ্রহের জন্য ছুটছেন। কেউ রাস্তায় ভ্যান-গাড়িতে করে কলস-বাতলি নিয়ে, আবার কেউ হাতে বাতলি-বোতল নিয়ে ছুটছেন পানির সন্ধান। কেউ আবার খাবারের পানির জন্য দোকানের বোতলজাত পানির ওপর ভরসাও রাখছেন। পানির জন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শহর এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় নেই কোনো নলকূপ কিংবা সুপেয় জলাধার। ফলে তারা শহরের বাহিরের চা বাগান বা শহরতলীর বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করতে ছুটছেন। তবে দূরবর্তী নলকূপ থেকে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করতে পারলেও নিজেদের গোসল, থালাবাসন ও কাপড়চোপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন কাজ নিয়ে চরম বিপাকের মুখে পড়েছেন তারা। কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কানন চন্দ জানান, তার বাসায় একটি নলকূপ রয়েছে। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাসার লোকজনকে পানি সরবরাহ করছেন তিনি। মদনীবাগের বাসিন্দা শরীফ এহসানুল হক জানান, রাতেই তাদের বাসায় পানি শেষ হয়ে গেছে। তাদের পানি সংগ্রহ হয় সিটি করপোরেশনের লাইন থেকে। বিদ্যুৎ না থাকায় লাইনেও পানি আসছে না। উপ-শহরের বাসিন্দা তানজিনা জানান, পানি না থাকায় খাবারসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। রাতে তার বাসার ট্যাঙ্কারের পানি শেষ হয়ে যায়। সকালে খাবার পানির মজুতও ফুরিয়ে গেছে। একজন্য সকালে দোকান থেকে কয়েক লিটার পানি কিনে এনেছেন বলেও জানান তিনি। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ জানান, সিলেট নগরের পানি বিতরণ ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পানির সরবরাহও স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নয়; বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানেও বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকায়। কমে গেছে ইন্টারনেটের গতিও। পিডিবি সূত্র জানায়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামতে গত মঙ্গলবার থেকেই কাজ করছেন ২ শতাধিক কর্মী। রাতেও বিরতীহীনভাবে মেরামত কাজ করেন তারা। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কখন; এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি। অবশ্য, বিকল্প উপায়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেট সিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবার কথা জানান সেখানকার কয়েকজন প্রকৌশলী। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি এর কুমারগাঁও বিদ্যুতকেন্দ্রে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যায়। এরপর থেকে সিলেট শহর ও আশাপাশের এলাকা এবং সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। অবশ্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অগ্নিকা-ে দু’টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্তের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের অধীনে চারটি ডিভিশন ছাড়াও জগন্নাথপুর এলাকার প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, সিলেট মহানগরীর প্রায় তিন লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে ভোগান্তিও পোহাচ্ছেন মহানগরীর বাসিন্দারা। মেরামত করা কিছু পিলার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। একটি ট্রান্সফরমার গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। সেটি স্থাপন কাজ শেষ হলে হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের দুই শতাধিক জনবল কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, মহানগরীতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারে। যদিও নগরে সাড়ে ৫৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে পানির গ্রাহক রয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজার। বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার আগে প্রায় এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা গেছে। এ অবস্থায় নগরবাসী হঠাৎ করে তীব্র পানির সংকটে পড়ে গেছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না জানিয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এদিকে কুমারগাঁও উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারে অগ্নিকা-ের ঘটনায় গত মঙ্গলবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ট্রান্সমিশন ২)-এর প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল হককে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়জুল কবির ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (শ্রীমঙ্গল) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্বাস উদ্দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments