32.8 C
Rajshahi
Thursday, November 26, 2020
Home সারাদেশ জাতীয় বিদ্যুৎহীন সিলেটে পানির জন্য হাহাকার

বিদ্যুৎহীন সিলেটে পানির জন্য হাহাকার

এফএনএস: কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুতের ১৩৩/৩২ গ্রিড উপকেন্দ্রে অগ্নিকা-ের পর থেকে ২৪ ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎহীন সিলেট শহর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকা। এ কারণে পুরো শহরের বাসিন্দারা সীমাহীন দুর্ভোগের কবলে পড়েছেন। এর মধ্যে পানির সমস্যা সবচেয়ে বেশি। নগরের বাসিন্দারা জানান, বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণে গত মঙ্গলবার বিকেল থেকেই পানি সংকট শুরু হয় নগরজুড়ে। রাতে এই সংকট প্রকট আকার ধারণ করে। বেশির ভাগ বাসায় খাবার পানিও শেষ হয়ে গেছে। গতকাল বুধবার সকালে নগরের পাড়া-মহল্লায় দেখা গেছে অন্যরকম চিত্র। পানি সংগ্রহের বিকল্প পথ খুঁজতে পথে বেরিয়েছেন অনেকে। যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই পানি সংগ্রহের জন্য ছুটছেন। কেউ রাস্তায় ভ্যান-গাড়িতে করে কলস-বাতলি নিয়ে, আবার কেউ হাতে বাতলি-বোতল নিয়ে ছুটছেন পানির সন্ধান। কেউ আবার খাবারের পানির জন্য দোকানের বোতলজাত পানির ওপর ভরসাও রাখছেন। পানির জন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শহর এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকায় নেই কোনো নলকূপ কিংবা সুপেয় জলাধার। ফলে তারা শহরের বাহিরের চা বাগান বা শহরতলীর বিভিন্ন স্থান থেকে খাবারের পানি সংগ্রহ করতে ছুটছেন। তবে দূরবর্তী নলকূপ থেকে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা করতে পারলেও নিজেদের গোসল, থালাবাসন ও কাপড়চোপড় ধোয়াসহ দৈনন্দিন কাজ নিয়ে চরম বিপাকের মুখে পড়েছেন তারা। কালীবাড়ী এলাকার বাসিন্দা কানন চন্দ জানান, তার বাসায় একটি নলকূপ রয়েছে। সেখান থেকে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাসার লোকজনকে পানি সরবরাহ করছেন তিনি। মদনীবাগের বাসিন্দা শরীফ এহসানুল হক জানান, রাতেই তাদের বাসায় পানি শেষ হয়ে গেছে। তাদের পানি সংগ্রহ হয় সিটি করপোরেশনের লাইন থেকে। বিদ্যুৎ না থাকায় লাইনেও পানি আসছে না। উপ-শহরের বাসিন্দা তানজিনা জানান, পানি না থাকায় খাবারসহ দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। রাতে তার বাসার ট্যাঙ্কারের পানি শেষ হয়ে যায়। সকালে খাবার পানির মজুতও ফুরিয়ে গেছে। একজন্য সকালে দোকান থেকে কয়েক লিটার পানি কিনে এনেছেন বলেও জানান তিনি। সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজ জানান, সিলেট নগরের পানি বিতরণ ব্যবস্থা বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। এ কারণে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্বাভাবিক না হলে পানির সরবরাহও স্বাভাবিক করা সম্ভব হচ্ছে না। শুধু পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিপর্যয় নয়; বিভিন্ন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রদানেও বিঘœ সৃষ্টি হচ্ছে বিদ্যুৎ না থাকায়। কমে গেছে ইন্টারনেটের গতিও। পিডিবি সূত্র জানায়, আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমার মেরামতে গত মঙ্গলবার থেকেই কাজ করছেন ২ শতাধিক কর্মী। রাতেও বিরতীহীনভাবে মেরামত কাজ করেন তারা। তবে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে কখন; এ বিষয়ে কিছু বলতে পারেননি তিনি। অবশ্য, বিকল্প উপায়ে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার মধ্যে সিলেট সিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হবার কথা জানান সেখানকার কয়েকজন প্রকৌশলী। উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রিড ১৩২/৩৩ কেভি এর কুমারগাঁও বিদ্যুতকেন্দ্রে আগুন লাগে। ফায়ার সার্ভিসের ৫টি ইউনিট চেষ্টা চালিয়ে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে দুটি ট্রান্সফরমার পুড়ে যায়। এরপর থেকে সিলেট শহর ও আশাপাশের এলাকা এবং সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। অবশ্য সন্ধ্যা ৭টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, অগ্নিকা-ে দু’টি ট্রান্সফরমার ক্ষতিগ্রস্তের কারণে বিদ্যুৎ উন্নয়ন ও বিতরণ বিভাগ সিলেটের অধীনে চারটি ডিভিশন ছাড়াও জগন্নাথপুর এলাকার প্রায় ৩ লাখ গ্রাহক এখনও বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী (বিক্রয় ও বিতরণ) খন্দকার মোকাম্মেল হোসেন বলেন, সিলেট মহানগরীর প্রায় তিন লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছেন। সেই সঙ্গে ভোগান্তিও পোহাচ্ছেন মহানগরীর বাসিন্দারা। মেরামত করা কিছু পিলার পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হবে। একটি ট্রান্সফরমার গাজীপুরের টঙ্গী থেকে সিলেটে নিয়ে আসা হয়েছে। সেটি স্থাপন কাজ শেষ হলে হয়তো পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এজন্য বিদ্যুৎ বিভাগের দুই শতাধিক জনবল কাজ করে যাচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ শাখার নির্বাহী প্রকৌশলী আলী আকবর জানান, মহানগরীতে প্রায় সাড়ে ৮ লাখ বাসিন্দার দৈনিক পানির চাহিদা রয়েছে ৮ কোটি লিটার। এর মধ্যে ৪ থেকে ৫ কোটি লিটার সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ সরবরাহ করতে পারে। যদিও নগরে সাড়ে ৫৪ হাজার হোল্ডিংয়ের মধ্যে পানির গ্রাহক রয়েছেন সাড়ে ১৬ হাজার। বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগুন লাগার আগে প্রায় এক কোটি লিটার পানি সরবরাহ করা গেছে। এ অবস্থায় নগরবাসী হঠাৎ করে তীব্র পানির সংকটে পড়ে গেছেন। বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঠিকভাবে পানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে না জানিয়ে সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হয়েছে। এদিকে কুমারগাঁও উপকেন্দ্রের পাওয়ার ট্রান্সফরমারে অগ্নিকা-ের ঘটনায় গত মঙ্গলবার চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেয় পাওয়ার গ্রিড অব কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ট্রান্সমিশন ২)-এর প্রধান প্রকৌশলী সাইফুল হককে আহ্বায়ক করে এ কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বি এম মিজানুর রহমান, মোহাম্মদ ফয়জুল কবির ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (শ্রীমঙ্গল) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্বাস উদ্দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

নগরীতে ‘রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণে করণীয় শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক: অপরাজিতা নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্প রাজশাহীর আওতায় গতকাল সকাল ১১টায় রাজশাহী মহানগরীর পদ্মা গার্ডেন কনভেনশন হলে ‘রাজনৈতিক দলে নারীর অংশগ্রহণ এবং...

ডা. মিলনের আত্মত্যাগে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধাদের পথ সুগম হয়: ফখরুল

এফএনএস: গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে শহীদ ডা. মিলন পালন করেছিলেন অকুতোভয় সৈনিকের ভূমিকা। তার আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে নয় বছরের স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রাম চূড়ান্ত...

সরকারি কর্মচারীদের মেধা, জ্ঞান, বুদ্ধি দেশের কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: সরকার বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলার মত দক্ষ সরকারি কর্মচারী গড়ে তুলতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মেধা,...

জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন বাংলাদেশ’র মানববন্ধন ও র‌্যালি

নিজস্ব প্রতিবেদক: জঙ্গিবাদমুক্ত অসাম্প্রদায়ি ক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় বিশ্ব শান্তি, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে মানববন্ধন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত...

Recent Comments