32.8 C
Rajshahi
Sunday, January 17, 2021
Home সারাদেশ বড়াল নদী এখন ফসলের মাঠ

বড়াল নদী এখন ফসলের মাঠ

চারঘাট প্রতিনিধি: প্রমত্তা পদ্মার শাখা বড়াল নদী নাব্য হারিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। নদীর বুকে পলি জমে দুপাড় চেপে গেছে এবং নদীর পাড়ে বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হয়েছে। স্বয়ং চারঘাট পৌরসভা নদীর ভেতরে রাস্তা ও পাবলিক টয়লেট নির্মাণ করেছে। নদীর চর ভূমিগ্রাসীরা দখল করে নিয়েছে। বর্তমানে এ নদীর বুকে ধান, গম, মশুর, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ, বেগুনসহ বিভিন্ন আবাদ করা হচ্ছে। জানা গেছে, রাজশাহীর চারঘাট থেকে পদ্মার শাখা হিসেবে বড়াল নদীর উৎপত্তি হয়ে বাঘা, নাটোরের বাগাতিপাড়া, বড়াইগ্রাম, পাবনার চাটমোহর, ভাঙ্গুড়া ও ফরিদপুর উপজেলার মধ্য দিয়ে বাঘাবাড়ী হয়ে হুড়া সাগরের বুকে মিশে নাকালিয়ায় যমুনায় পড়েছে।
এক সময় যোগাযোগের সুবিধার কারণে বড়াল নদের দুই পাড়ে চারঘাট বাজার, পুঠিমারী বাজার, আড়ানী বাজার, রুস্তমপুর পশুহাট, জামনগর বাজার, বাঁশবাড়িয়া বাজার, তমালতলা বাজার, বাগাতিপাড়া থানা, দয়ারামপুর সেনানিবাসসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা গড়ে উঠেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড ১৯৮১-৮২ অর্থ বছরে নদের তীরবর্তী উপজেলাগুলোকে বন্যামুক্ত করার জন্য উৎসমুখ চারঘাটে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ এবং যাতায়াতের জন্য নদীর বুকে একাধিক ব্রিজ নির্মাণ করায় এ নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রন্থ হয়ে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন এর চারঘাট উপজেলার সভাপতি মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, বড়াল নদীর বিভিন্ন স্থানে স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির স্বাভাবিক গতি প্রবাহ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন স্থানে স্লুইসগেট ও বাঁধ নির্মাণের ফলে ক্রমান্বয়ে বড়াল শুকিয়ে খালে পরিণত হয়েছে। এখন বড়ালে তলদেশে বিভিন্ন আবাদ করা হচ্ছে। বর্ষায় কিছু পানি জমলেও শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই মরা এ নদী খালে পরিণত হয়।
পুঠিমারী গ্রামের কৃষক মিনহাজ আলী বলেন, বড়ালে পানি না থাকায় এলাকার কৃষকরা নদের বুক জুড়ে ফসলের আবাদ করেন। পরিণত হয় গবাদি পশুর চারণ ক্ষেত্রে। এক সময় যে বড়ালের পানির সেচে নদীর তীরবর্তী মানুষ তাদের জমিতে ফসল ফলাত। এখন সে নদের বুকে অগভীর নলকূপ বসিয়ে চলে ধান গম চাষ।
বড়াল রক্ষা আন্দোলন চারঘাট উপজেলা কমিটির সভাপতি সাইফুল ইসলাম বাদশা বলেন, পৌরসভাসহ বিভিন্ন প্রভাবশালী মহল প্রতিনিয়ত বড়াল নদীতে স্থাপনা তৈরি করছে। বড়াল নদীতে পানি না থাকায় এ নদের ধারে গড়ে উঠা ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্রগুলো তার ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। সেচসহ প্রতিদিনের প্রয়োজনের অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি ব্যবহার করায় পানির স্তর নিচে নেমে যাচ্ছে। এখনই সরকারি উদ্যোগ গ্রহণ করে পুনঃখনন করা না হলে বড়াল তার ঐতিহ্য হারিয়ে শেষ হয়ে যাবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হবিবুর রহমানকে সংবর্ধনা

রাজশাহী কলেজ এইচএসসি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মহা. হবিবুর রহমানকে বিদায় সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজশাহী...

সাংবাদিক হিলালী ওয়াদুদের মৃত্যু

এফএনএস: দৈনিক ভোরের কাগজের জ্যেষ্ঠ সহ-সম্পাদক হিলালী ওয়াদুদ চৌধুরী আর নেই। গতকাল শুক্রবার সকালে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান তিনি। ঢাকা...

গোদাগাড়ীর কাদমা হাইস্কুলের ভবন না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক: গোদাগাড়ীর কাদমা হাই স্কুল ১৯৯৭ইং সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে অত্র বিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মচারীরা অত্যন্ত কষ্ট করে অনেক ত্যাগ স্বীকার...

রাজশাহীতে মাসব্যাপী বিসিক-ঐক্য উদ্যোক্তা মেলার উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) ও ঐক্য ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে বিসিক শিল্পনগরী, রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মঠপুকুর সংলগ্ন মাঠে বঙ্গবন্ধুর...

Recent Comments