32.8 C
Rajshahi
Sunday, July 25, 2021
Home মহানগর রাজশাহীর চরাঞ্চল কৃষি অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে

রাজশাহীর চরাঞ্চল কৃষি অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে

নিজস্ব প্রতিবেদক: নদী অববাহিকায় জেগে ওঠা চর কৃষি অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনার ক্ষেত্র হতে পারে। এর ফলে রাজশাহীর চরাঞ্চলে বসবাসরত মানুষের জীবনমান ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। চরে অভাবি মানুষ নেই। চাষাবাদ করে চরের বাসিন্দারা স্বাবলম্বী হচ্ছেন। চরবাসীর এই উন্নয়নে কৃষি সংশ্লিষ্ট কর্মসূচী বিশেষ ভূমিকা রাখছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। চরাঞ্চলের উৎপাদিত সবজি রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠানো হচ্ছে। সবজির ফলনে আশাতীত সাফল্য পাওয়ায় পদ্মার চরাঞ্চল নিয়ে কৃষি অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছে।
রাজশাহীর জেলার চারটি উপজেলার চরের মাটিতে চাষিরা ফলিয়েছেন টমেটো, বাধাকপি, বেগুন, শিম, লাউ, পেঁপেসহ নানান প্রকার সবজি। এছাড়া রয়েছে এই চরে পেয়ারা এবং ড্রাগন ফলেরও বাগান হয়েছে। পেঁয়াজ, রসুন, মাসকলাইসহ আরও নানা ফসল চাষ করেছেন চাষিরা। তবে যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চাষিদের লাভ হচ্ছে কম। চার উপজেলায় চরে জমির পরিমাণ ১৪ হাজার ৪৪ হেক্টর। এর মধ্যে আবাদী জমির পরিমাণ ৭ হাজার ৯৪৮ হেক্টর। বর্তমানে ৬৬৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষ হয়েছে।
কৃষকরা জানিয়েছেন, বেলে দোআঁশ মাটিতে সার দেয়ার প্রয়োজন হয় না। পোকামাকড়েরও আক্রমণ কম। তাই খুব একটা কীটনাশক দেয়ারও প্রয়োজন পড়ে না। শুধু পানি পেলেই চরে সব ফসলের আবাদ ভাল হয়। কিন্তু শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে তারা সবজির দাম পান কম।
চর মাজারদিয়া গ্রামের চাষি ফারুক হোসেন বলেন, নদী বড় থাকলে নৌকায় তাদের যোগাযোগ সহজ হয়। কিন্তু তখন পানি ঢুকে তাদের চাষের জমি কমে যায়। আবার পানি নেমে গেলে যে পলি পড়ে তাতে সবজির চাষ হয় ভাল। কিন্তু তখন নৌপথ কমে গিয়ে বেড়ে যায় পায়ে হাঁটার পথ। এই দুর্গম চর থেকে তাদের সবজি ওপারের বাজারে নিতে নিতেই তাজা সবজি আর তাজা থাকে না। তখন পাইকারী ক্রেতারা দাম কম দেন।
পবার হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বজলে রেজবী আল হাসান মুঞ্জিল বলেন, চরের সবজি খুব সুস্বাদু। নদীর ওপারের সবজি আর এপারের সবজির স্বাদের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাৎ। তিনি বলেন, নদীপাড় থেকে চরের গ্রাম পর্যন্ত যদি পাকা রাস্তা নির্মাণ করা যায় তাহলে চাষিদের কষ্ট অনেক কমে যাবে।
রাজশাহী জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামশুল হক বলেন, চরের মাটিতে যে কোন ফসলের আবাদ অত্যন্ত ভাল হয়ে থাকে। প্রতিবছর বন্যায় জমি তলিয়ে যাওয়ার পর নতুন করে পলি জমার কারণে চাষাবাদ ভাল হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments