32.8 C
Rajshahi
Thursday, October 21, 2021
Home সারাদেশ শীতের আগমনে চারঘাটে

শীতের আগমনে চারঘাটে

চারঘাট প্রতিনিধি:দিনে রোদের প্রখরতা, তাতে যেন রয়েছে এক ধরনের হিমেল পরশ। জানান দিচ্ছে বছর ঘুরে বাংলার প্রকৃতিতে এসেছে শীত। সন্ধ্যা নামার সাথে সাথে হিম ভাবের তীব্রতা আরো বেড়ে যায়। এ কারণে শীতের কাপড়-চাদর, লেপ ও কম্বলের যেমনি কদর বেড়েছে, সেই সাথে কদর বেড়েছে নানা রকম শীতের পিঠারও।
শীত এলেই মনে হয়ে যায় শীতের পিঠার কথা। পিঠা ছাড়া বাঙালীর জীবনে শীত যেন পরিপূর্ণ হয় না। এই শীতের পিঠা নিয়ে বাংলা সাহিত্যে কত গান-কবিতা রচিত হয়েছে। কবি সুফিয়া কামাল ‘পল্লী মায়ের কোল’ কবিতায় গ্রাম বাংলার পৌষ পার্বণে শীতের পিঠা খাওয়ার শাশ্বত রূপ অঙ্কন করেছেন এভাবেই- “পৌষ পার্বণে পিঠা খেতে বসি খুশিতে বিষম খেয়ে/ আরো উল্লাস বাড়িয়াছে মনে মায়ের বকুনি পেয়ে।”
শীতের সকালে কাঁপতে কাঁপতে মায়ের উনুনের পাশে বসে পিঠা খাওয়া গ্রামের অতি পরিচিত দৃশ্য। কিন্তু শীতের পরিচিত এই দৃশ্যটি আর আগের মত রাজশাহীর চারঘাটে দেখা যায় না। ব্যস্ত নাগরিক জীবনে ঘরে ঘরে পিঠা বানানোর সময় মেলা ভার। সে জন্য বর্তমানে বাইরের দোকান পিঠায় একমাত্র ভরসা। আর সেই কারণেই চারঘাটের বিভিন্ন জায়গায় গড়ে ওঠেছে ভ্রাম্যমান পিঠার দোকান।
শীতের এই পিঠার ব্যবসা করে যেমন সংসারের অভাব দুর করছে অনেকেই। সেই সাথে শহরের অভিজাত গৃহবধূদের মুক্তি দিয়েছে পিঠা তৈরির কষ্ট থেকে।
শীতকালে গ্রাম থেকে শহরের সকল পরিবারেই মাঝে পিঠার চাহিদা থাকে। কিন্তু এ পিঠা তৈরিতে নানা ঝক্কি-ঝামেলা সামলাতে হয়। প্রয়োজন পড়ে নানা উপকরণ। সেই সাথে লাগে অভিজ্ঞতা। সব মিলে অন্যসব খাবারের মত সহজে তৈরি করা যায় না শীতের পিঠা।
তবে কোন ঝামেলা ও অভিজ্ঞতা ছাড়া শীতের পিঠা খাওয়ার একমাত্র মাধ্যম হল ভ্রাম্যমান পিঠা দোকান। এ সকল দোকান প্রতিদিন ভোর ৫টা থেকে সকাল ৯টা এবং বিকাল ৪টা থেকে শুরু হয়ে রাত ৯টা পর্যন্ত রমরমা বেচা-কেনা। এ সমস্ত ভ্রাম্যমান পিঠার দোকানের অধিকাংশ মালিকরাই হলো হতদরিদ্র।
চারঘাটের সরদহ বাজারের পিঠা বিক্রেতা জিনারুল ইসলামের সাথে আলাপকালে জানা গেলো, শীতের পিঠার ব্যবসাটা লাভ জনক হওয়ায় বছরের এই সময়টায় তিনি পিঠা ব্যবসা করে থাকেন।
তিনি আরো বলেন, প্রতিদিন সকাল ও বিকালে তিনি সরদহ বাজারে পিঠার দোকান দেন। তিনি এখানে ভাপা পিঠা বা ধুপি বিক্রয় করেন। চালের গুড়া, খেজুরের পাটালি, নারিকেল ও লবণের মিশ্রিনে তৈরি হয় তার এ পিঠা। প্রতিদিন তিনি ২০ কেজি চাউলের গুড়া, ৮/১০ কেজি খেজুরের পাটালি ও ৬টা নারিকেল ব্যবহার করে থাকেন পিঠা তৈরিতে। তার প্রতিটি পিঠা ৫ টাকা দরে বিক্রয় করা হয়। যা থেকে তার প্রতিদিন লাভ হয় ৫ থেকে ৬ শত টাকা।
জিনারুলের মতো আরো অনেক মৌসুমী পিঠা ব্যবসায়ী রয়েছেন এখানে। এসব দোকানে ভাপা পিঠা, চিতই পিঠাসহ বিভিন্ন ধরনের বাহারী ও মজাদার পিঠা পাওয়া যায়। যা বিক্রি করে সবার সংসার ভালো ভাবেই চলছে।
হারুন-অর-রশিদ নামে এক জন পিঠা খেতে খেতে বললেন, ব্যস্ততার কারনে বাড়িতে পিঠা খাওয়ার সময় হয়ে ওঠে না, তাই এখানে সেই স্বাদ নেওয়ার চেষ্টা করছি। শীতের এই পিঠা খেয়ে অন্য রকমের মজা পেয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Most Popular

পবায় মডেল পোল্ট্রি খামার প্রতিষ্ঠার জন্য মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর পবা উপজেলায় কনজুমারস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, পবা, রাজশাহী এর যৌথ আয়োজনে মডেল খামারী নির্বাচন বিষয়ক...

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় শীঘ্রই আসছে নীতিমালা

নিজস্ব প্রতিবেদক: খাদ্যে ট্রান্সফ্যাট একটি অযাচিত উপাদান এবং তা নিত্য খাদ্য দ্রব্যের সাথে গ্রহণের ফলে যে সকল স্বাস্থ্যক্ষতি ও মৃত্যু সংঘটিত হচ্ছে...

বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টি-২০ ক্রিকেট চ্যাম্পিয়ন ফাইটার রাজশাহী

নিজস্ব প্রতিবেদক: কুমারপাড়া রাইডার্স কে ১৯ রানে পরাজিত করে রাঙ্গাপরী ১ম বঙ্গবন্ধু টি-২০ গো- কাপ ক্রিকেট প্রতিযোগিতার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে...

ক্ষুধা-দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে জয়ী হলেই উন্নয়নের মহাসড়কে যাত্রার সাহস আসে : প্রধানমন্ত্রী

এফএনএস: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কৃষি সমৃদ্ধির উৎকর্ষে খাদ্য নিরাপত্তার স্বস্তি আসে। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে সংগ্রামে জয়ী হলেই কেবল উন্নয়নের মহাসড়কে...

Recent Comments